প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৩, ২০২৬, ১:০৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১৩, ২০২৬, ১২:৫১ পি.এম
মুন্সিগঞ্জে শুরু হয়েছে আলু উত্তোলন: বাম্পার ফলনের আশা, তবে দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সিগঞ্জ
দেশের 'আলুর ভাণ্ডার' খ্যাত মুন্সিগঞ্জে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের আলু উত্তোলন। জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন কেবলই ব্যস্ততার দৃশ্য। অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় এবার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে বাম্পার ফলনের আনন্দ ছাপিয়ে অনেক কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বাজারমূল্য ও উৎপাদন খরচ।
মাঠজুড়ে কর্মব্যস্ততা
মুন্সিগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী, সিরাজদিখান, শ্রীনগর, লৌহজং ও গজারিয়া উপজেলার মাঠগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। শ্রমিকরা জমি থেকে আলু তুলছেন, কেউ বাছাই করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত বস্তাবন্দী করতে।
* আগাম চাষ: যারা আগেভাগে আলু রোপণ করেছিলেন, তারা ইতোমধ্যে ফসল ঘরে তুলতে শুরু করেছেন।
* সংরক্ষণ: উত্তোলিত আলুর একটি বড় অংশ স্থানীয় হিমাগারগুলোতে (কোল্ড স্টোরেজ) পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
* বাজারজাতকরণ: অনেক কৃষক সরাসরি মাঠ থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
উৎপাদন ব্যয় ও কৃষকের উদ্বেগ
ফলন ভালো হলেও কৃষকদের প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উৎপাদন খরচ। সার, বীজ এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার খরচ অনেক বেশি হয়েছে।
"আবহাওয়ার কারণে এবার আলুর আকার ও মান বেশ ভালো। কিন্তু বাজারে যদি সঠিক দাম না পাই, তবে লোকসান ঠেকানো কঠিন হবে। হিমাগারে রাখার খরচও এখন চড়া।"
— স্থানীয় একজন কৃষক।
কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণ
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, চলতি মৌসুমে মুন্সিগঞ্জের ছয়টি উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বড় কোনো রোগবালাই আক্রমণ করতে পারেনি। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই উত্তোলন প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলবে।
এক নজরে মুন্সিগঞ্জের আলু মৌসুম:
| প্রধান উপজেলাসমূহ | সদর, টঙ্গিবাড়ী, সিরাজদিখান, শ্রীনগর, লৌহজং, গজারিয়া |
| উত্তোলনকাল | মার্চ থেকে এপ্রিল |
| প্রধান চ্যালেঞ্জ | উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করা |
| বর্তমান অবস্থা | পুরোদমে উত্তোলন ও হিমাগারে সংরক্ষণ চলছে |
www.amarmunshiganj24news.com