June 3, 2026, 4:54 am
শিরোনাম:
শ্রীনগরে ৫ লক্ষ টাকার মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা: সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে গণমাধ্যমের দ্বারস্থ ভুক্তভোগীরা মুন্সিগঞ্জে জেলা পুলিশের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিমতলায় এমপি শেখ মোঃ আব্দুল্লাহর কার্যালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত: জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার বালাশুরে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এমপি শেখ মোঃ আব্দুল্লাহর: খাল খনন ও মাদক নির্মূলে কঠোর নির্দেশ মুন্সিগঞ্জে শুরু হয়েছে আলু উত্তোলন: বাম্পার ফলনের আশা, তবে দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক সিরাজদিখানের ৩১ প্রতিষ্ঠানে সরকারি বরাদ্দের খেজুর বিতরণ ব্যাংক যখন ‘শুন্য’ ফুটপাত তখন ‘পূর্ণ’: নতুন টাকার রহস্য কোথায়? জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২৬: সিরাজদিখানে র‍্যালী ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়া অনুষ্ঠিত সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ আর নেই মুন্সীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা

ব্যাংক যখন ‘শুন্য’ ফুটপাত তখন ‘পূর্ণ’: নতুন টাকার রহস্য কোথায়?

শাহ পরান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ঈদ বা বিশেষ উৎসব এলেই বাজারে নতুন টাকার চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য এই নতুন টাকা সংগ্রহ করা যেন এক যুদ্ধের নাম। ব্যাংকের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও যেখানে জোটে ‘দুঃখিত, স্টক শেষ’, সেখানে রাস্তার মোড়ে বা ফুটপাতে নতুন টাকার বান্ডিলের কোনো অভাব নেই। প্রশ্ন উঠেছে, যে টাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে সরাসরি জনগণের হাতে যাওয়ার কথা, তা জনমানুষের আগে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছায় কীভাবে?

সিন্ডিকেটের দখলে নতুন টাকা?
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নতুন টাকা সরবরাহের একটি নির্দিষ্ট কোটা থাকে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে এই টাকার বড় একটি অংশ সাধারণ গ্রাহকের হাতে না গিয়ে চলে যায় কালোবাজারি বা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে।

রাস্তার পাশের বিক্রেতারা প্রতি বান্ডিল (১০০টি নোট) টাকার বিনিময়ে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ‘কমিশন’ আদায় করে। অর্থাৎ, আপনার প্রাপ্য সেবাটিই আপনাকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে রাস্তার ধারের খোলা বাজার থেকে।

এটি কি সঠিক ব্যবস্থা?
না, এটি কোনোভাবেই সঠিক বা নৈতিক ব্যবস্থা নয়। এর ফলে কয়েকটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে:
* আর্থিক বৈষম্য: সাধারণ নাগরিক তার আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
* কালোবাজারি উৎসাহ: যখন ব্যাংকের সম্পদ বাইরে চড়া দামে বিক্রি হয়, তখন এটি একটি সমান্তরাল অবৈধ অর্থনীতি তৈরি করে।
* ব্যাংকিং খাতের প্রতি অবিশ্বাস: মানুষ যখন ব্যাংকে গিয়ে সেবা পায় না, তখন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে।

জনগণের প্রাপ্য টাকা কেন রাস্তায়?
নতুন টাকা মুদ্রণ করা হয় জনগণের লেনদেন সহজ করতে এবং পুরনো জরাজীর্ণ নোট প্রতিস্থাপন করতে। এই টাকা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তৈরি। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের সমান সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু নজরদারির অভাব এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত লাভের লোভের কারণে এই সিস্টেমটি ভেঙে পড়েছে।

ব্যাংকগুলো যদি স্বচ্ছতার সাথে ‘ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ’ (আগে আসলে আগে পাবেন) ভিত্তিতে ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে টাকা বিতরণ করত, তবে এই সংকট ঘনীভূত হতো না।

সারকথা: নতুন টাকার এই ‘ওপেন সিক্রেট’ ব্যবসা বন্ধ করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকি এবং ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা দিয়ে সাধারণ মানুষকেই নতুন টাকা কিনতে হবে—যা কোনো সভ্য অর্থনীতির চিত্র হতে পারে না।