April 22, 2026, 9:56 am
শিরোনাম:
শ্রীনগরে ৫ লক্ষ টাকার মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা: সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে গণমাধ্যমের দ্বারস্থ ভুক্তভোগীরা মুন্সিগঞ্জে জেলা পুলিশের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিমতলায় এমপি শেখ মোঃ আব্দুল্লাহর কার্যালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত: জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার বালাশুরে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এমপি শেখ মোঃ আব্দুল্লাহর: খাল খনন ও মাদক নির্মূলে কঠোর নির্দেশ মুন্সিগঞ্জে শুরু হয়েছে আলু উত্তোলন: বাম্পার ফলনের আশা, তবে দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক সিরাজদিখানের ৩১ প্রতিষ্ঠানে সরকারি বরাদ্দের খেজুর বিতরণ ব্যাংক যখন ‘শুন্য’ ফুটপাত তখন ‘পূর্ণ’: নতুন টাকার রহস্য কোথায়? জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২৬: সিরাজদিখানে র‍্যালী ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়া অনুষ্ঠিত সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ আর নেই মুন্সীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা

শ্রীনগরে ৫ লক্ষ টাকার মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা: সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে গণমাধ্যমের দ্বারস্থ ভুক্তভোগীরা

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ৫ লক্ষ টাকার মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীরা এই মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ৈখালী গ্রামের মাহাবুব দেওয়ান, আজাদ হুসাইন, মজিবর দেওয়ান, মোয়াজ্জেম দেওয়ান এবং বাবু দেওয়ানের বিরুদ্ধে তাদেরই আপন চাচাতো বোন লাখি আক্তার বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। তবে অভিযুক্তদের দাবি, পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিহিংসা থেকেই এই সাজানো মামলা করা হয়েছে।

এই মামলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এজাহারভুক্ত সাক্ষীরাই এখন মামলাটিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করছেন। মামলার ২ নম্বর সাক্ষী মোঃ আশরাফ প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, তিনি এই চাঁদাবাজির বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বা ভুল বুঝিয়ে সাক্ষী করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আসামিরা সজ্জন ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ী। এলাকায় তাদের সুনাম রয়েছে। মূলত জমিজমা নিয়ে ঝগড়াকে কেন্দ্র করে এই বানোয়াট মামলা সাজানো হয়েছে।”

একইভাবে ৩ নম্বর সাক্ষী নজরুল ইসলামও ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এজাহারে উল্লেখিত তারিখ বা ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং তাকে না জানিয়েই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার ৪ নম্বর আসামি মোয়াজ্জেম দেওয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সমাজে সম্মানের সাথে বসবাস করি। জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজ বানিয়ে যে হয়রানি করা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করা হয়।”

এজাহার অনুযায়ী ঘটনার তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ দেখানো হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঐদিন চাঁদাবাজির মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি। মিথ্যা মামলায় আইনি লড়াই ও সামাজিক অপমানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো পরিবারটি। তারা এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।